আজ শনিবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ)র অননুমোদিত আবাসন প্রকল্প উচ্ছেদে অভিযান

ফকির শহিদুল ইসলাম,খুলনা
পরিকল্পিত খুলনা গড়ার লক্ষ্যে কঠোর অবস্থানে রয়েছে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ)। বর্তমান সময়ে প্রায় নগরীতে বেশ কিছু সংখ্যক অবৈধ আবাসিক প্রকল্প গড়ে উঠেছে। পাশাপাশি প্রায় কয়েক শতাধিক ঝুকিপুর্ণ ও পরিত্যাক্ত, হেলে পড়া ইমারত রয়েছে। এ গুলোর বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযানে নেমেছে কেডিএ। যার প্রেক্ষিতে গতকাল বেশ কয়েকটি অবৈধ আবাসিক প্রকল্প অপসারণে অভিযানে নামে কেডিএ। সোনাডাঙ্গা জয়বাংলা মোড় থেকে রায়েরমহল মোস্তর মোড় পর্যন্ত বেশ কয়টি আবাসিক প্রকল্প উচ্ছেদ করা হয়। সুন্দরবন আবাসিক প্রকল্প, টুটুল নগর আবাসিক প্রকল্প, খুলনা মডেল টাউন আবাসিক প্রকল্প, বিসমিল্লাহ হাউজিং আবাসিক প্রকল্প, এ.আর প্রোপার্টিজ,, খুলনা মডেল টাউন বিরূদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা। অভিযানে আবাসিক প্রকল্পগুলোর সাইন বোর্ড গেইটসহ বাউন্ডারী ওয়াল ভেঙ্গে অপসারণ করা হয়। তাছাড়া দীর্ঘদিন ধরে এ সব অবৈধ আবাসিক এলাকাগুলো কেডিএ’র থেকে কোন প্রকার অনুমোদন না নিয়ে নিজ ইচ্ছা মত নাম ব্যবহার করে আসছিল।
তাছাড়া ঝুকিপুর্ণ ও পরিত্যাক্ত হেলে পড়া ইমারত মালিকরা ধরা ছোয়ার বাইরে রয়েছে। ইতিমধ্যে আইনি জটিলতা শেষে এ সব ভবন মালিকদের তালিকা তৈরী করা হয়েছে। এখন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হচ্ছে কেডিএ। ইমারত বিধিমালা ১৯৯৬ সালের আইন অনুযায়ি এ সব ত্রুটিপুর্ণ, ঝুকিঁপুর্র্ণ, ভবন অপসারণ করা হচ্ছে। খুলনায় প্রায় কয়েক শতাধিক ইমারত রয়েছে। সে সব ঝুকিপূর্ণ ও পুরাতন ইমারত যেকোন সময়ে হেলে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। ঝুকিঁর মধ্যে রয়েছে এ সব ভবনে বসবাস করা সাধারণ মানুষ। অগ্নি নিরাপত্তাসহ কেডিএ’র অনুমোদন ছাড়া ইমারত তৈরির পাশাপাশি পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ছাড়া ভবন তৈরি করেছে। পর্যায়ক্রমে এ সব ভবনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে কেডিএ। ইতিমধ্যে ত্রুটিপুর্ণ, ঝুকিঁপুর্ণ হেলে পড়া ভবনগুলোর তালিকা গঠন করে ইমারত মালিকদের নোটিশ করা হয়েছে।
খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ উপ তত্তাবাধায়ক প্রকৌশল চলতি দ্বায়িত্ব মোঃ মুজিবুর রহমান বলেন, খুলনায় বিভিন্ন স্থানে প্রায় কয়েক শতাধিক ঝুকিপুর্ণ, পরিত্যাক্ত হেলে পড়া ভবন রয়েছে। রয়েছে অবৈধ আবাসিক প্রকল্প। সে সব ভবন ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে। পুরাতন জরাজীর্ণ পরিত্যাক্ত বিল্ডিংয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। এমন বিল্ডিং সাধারণ মানুষের জীবনের জন্যও হুমকি। অভিযোগ প্রেক্ষিতে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এ সব ভবন অপসারণে মাঠে নেমেছে। মুলত পুরাতন আর ঝুকিপুর্ণ বিল্ডিং আর থাকবে না এ শহরে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি স্থানে এ সব ইমারত ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। আরও কয়েক শতাধিক ইমারত ভেঙ্গে ফেলা হবে। সাধারণ জনগনের নিরাপত্তাসহ সুন্দর পরিকল্পিত খুলনা উপহার দিতে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
খুলনা কিং ষ্টোন ডেভেলপার এর স্বত্বাধিকার মোঃ রফিকুল ইসলাম (বাবু) বলেন, ১৯৬১ সালে পরিকল্পিত খুলনা গড়ার জন্য তৈরি হলেও কার্যক্রম বর্তমান সময়ে অনেকটা ঢিলেঢালা। মুলত খুলনায় ব্যপক হারে পরিত্যাক্ত, পুরাতন ঝুকিঁপূর্ণ ভবন রয়েছে। পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে বাহারী নামে অপরিকল্পত আবাসিক এলাকা। অনেকে মালিক এসব পুরাতন জরাজীর্ণ, হেলে পড়া ভবন টিকিয়ে রাখার জন্য নানা ধরণে তদবির নিয়ে মাঠে নেমেছেন। তাছাড়া অনেক ইমারত মালিক এ সব ঝুকিপুর্ণ পরিত্যাক্ত ভবন ভেঙ্গে ফেলার বিষয়ে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে লিখিত অভিযোগ করলেও ব্যবস্থা গ্রহণ করে না বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি ঝুকিপূর্ন জরাজীর্ণ হেলে পড়া ইমারত মালিকের বিরুদ্ধে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে গেলে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপসহ উচ্চ মহলের তদবির হয়।
খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’র চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ মাহাবুবুল ইসলাম বলেন, আজ থেকে আমরা উচ্ছেদ অভিযানে নেমেছি। বেশ কয়েকটি অবৈধ আবাসিক প্রকল্প ভেঙ্গে অপসারন করা হয়েছে। পরিকল্পিত খুলনায় কোন অপরিকল্পিত আবাসিক প্রকল্প থাকবে না আমরা এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে আছি। তাছাড়া ঝুকিপূর্ণ, জরাজীর্ণ, পরিত্যাক্ত, হেলে পড়া বিল্ডিংগুলোর বিরুদ্ধে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষর শুদ্ধি অভিযান কার্যক্রম চলছে। এ সব অবৈধ ও ঝুকিপুর্ণ ইমারতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে কেডিএ। শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবে অপসারণ করা শুরু করা হয়েছে। এ কার্যক্রমটি চলমান থাকবে। প্রথম পর্যায়ে প্রতিদিন আট থেকে দশটি অবৈধ জরাজীর্ণ, পরিত্যাক্ত, পুরাতন, হেলে পড়া ইমারত ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে। পাশাপাশি খুলনা আরো বেশ কয়েকটি অপরিকল্পিত বেশ কয়েকটা আবাসিক গড়ে উঠেছে, সেসব অবৈধ আবাসিক এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরো সংবাদ

ফেসবুকে খবর২৪ বিডি ডট নেট