আজ শনিবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

খুলনায় হাতে লিখে গ্রেড পরিবর্তনের অভিযোগ ৩ শিক্ষকের বিরুদ্ধে

খুলনা প্রতিনিধিঃ
খুলনার দাকোপে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ দুই সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তাদের বিরুদ্ধে শিক্ষা কার্যালয়ে থাকা সরকারি শিক্ষকদের সার্ভিস বইতে হাতে লিখে গ্রেড ও টাইমস্কেল পরিবর্তনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযুক্তরা হলেন, পানখালী-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম শফিউল আজম সেলিম, চালনা এনসি ব্লু-বার্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পল্লব কুমার বিশ্বাস ও বটবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বিষ্ণুপদ সরকার। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষকরা।

অভিযোগ থেকে জানা যায়, পল্লব বিশ্বাস ও বিষ্ণুপদ সরকার টাকার বিনিময়ে জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের সার্ভিস বইতে উচ্চতর গ্রেডসহ টাইমস্কেল লিখে দেয়। পরবর্তীতে চুক্তি অনুযায়ী শিক্ষকরা টাকা দিতে অনীহা জানালে পল্লব বিশ্বাসের কথামত বিষ্ণুপদ সরকার, পুনরায় তাদের সার্ভিস বইতে নিজ হাতে লিখে আগের অবস্থানে রেখে দেয়। এছাড়া অনলাইন থেকেও ভুক্তভোগী শিক্ষকদের বেতন-ভাতার তথ্য মুছে দেয়া হয়। এতে উচ্চতর গ্রেডসহ টাইমস্কেল থেকে বঞ্চিত হন শিক্ষকরা। অভিযোগ অস্বীকার করে বিষ্ণুপদ সরকার বলেন, ২০১৪ সালে তৎকালীন শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে সহকারী শিক্ষকদের উন্নীত গ্রেড সংশোধনের জন্য ১৮৫ জনের সার্ভিস বই লিখে দেন তিনি। তবে তাতে কোনো অনিয়ম করিনি।

অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে দেয়া অভিযোগে বলা হয়, বেশ কয়েক বছর ধরে শিক্ষক সমিতির নামে পল্লব কুমার বিশ্বাস ও পানখালী-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম শফিউল আজম সেলিম, প্রধান শিক্ষকদের ভয় দেখিয়ে বরাদ্দকৃত সব বিলের ওপর অলিখিত উৎকোচ নিয়ে থাকে।

কালাবগী আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি এস এম আনিসুর রহমান জানান, চারজন শিক্ষকের বিল করে দেয়ার কথা বলে তিন লাখ ৪০ হাজার টাকা উৎকোচ নেয় পল্লব বিশ্বাস ও এস এম শফিকুল আজম। পরে জানা যায় সরকারি বিল করতে কোনো টাকার প্রয়োজন হয়নি। এর আগেও তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক এস এম শফিউল আজম সেলিম বলেন, তদন্ত করে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবেন। সহকারী শিক্ষক পল্লব কুমার বিশ্বাস মুঠোফোনে বলেন, কিছু শিক্ষক আমাকে ফাঁসাতে পরিকল্পিতভাবে এসব অভিযোগ করছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিন্টু বিশ্বাস বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. অহিদুল ইসলাম বলেন, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরো সংবাদ

ফেসবুকে খবর২৪ বিডি ডট নেট