আজ বৃহস্পতিবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

করোনায় চীনে ২ কোটি লোক মারা গিয়েছে???

চীনে গত ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে নোবেল করোনাভাইরাসে ২ কোটি ১০ লাখ লোকের মৃত্যু হয়েছিলো। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সূত্র কি এমন তথ্য প্রকাশ করেছিলো? না, এমন তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা দেননি। এটি একটি অসত্য তথ্য। সত্য হচ্ছে একটি অনলাইন সাইটে এক প্রতিবেদনে পরিসংখ্যান দিয়ে বলা হয়েছিলো চীনে সেলফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমেছে। আর তা থেকে ভুল ধারণা করা হয় যে, এই সংখ্যক লোক সম্ভবত কভিড-১৯ এ মারা গেছে। এ ভুল পরবর্তীতে সংশোধন করা হয়নি, কিন্তু ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাপকভাবে।

গত ৪ এপ্রিল নিউজ এনটিতে প্রকাশিত ওই আর্টিকেলের শিরোনাম ছিলো ‘করোনাভাইরাসে ২ কোটি ১০ লাখ চীনা নাগরিক মারা গেছেন- যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের হাতে ডাটা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সূত্রে প্রকাশ করা নতুন একটি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২০ সালের মার্চ পর্যন্ত চীনে ২ কোটি ১০ লাখ লোকের মৃত্যু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা ধারণা করছেন এর মধ্যে কমপক্ষে ২ কোটি ৯০ হাজার লোকের মৃত্যু হয়েছে করোনাভাইরাসে।’

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ‘চীন করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা এবং মৃত্যুর বিষয়টি গোপন রাখছে। এটি বোঝা যায় কারণ বেইজিং কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি জানিয়েছে ১৯ মার্চ পর্যন্ত তিনমাসে দেশটিতে ২ কোটি ১০ লাখ সেলফোন নাম্বার বাতিল করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ৮ লাখ ৪০ হাজার ল্যান্ডফোন লাইনও বন্ধ করে দেয়া হয়েচে। চীন আক্রান্তের সংখ্যা প্রকাশ করেছে ৮১ হাজার ও মৃত্যু ৩ হাজার ৩০০। এটি একেবারে মনগড়া একটি হিসাব।’পরবর্তীতে এ নিউজটিই বিভিন্ন সাইটে কপি হতে শুরু করে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রতিবেদকের নাম পরিবর্তন করে জেমস আলামি থেকে আলাভি করা হয়েছে।

মৃত্যুর এ তথ্যাটিকে ভূয়া জানিয়ে এপি জানিয়েছে, চায়না মোবাইল লিমিটেডের এক প্রতিনিধি বলেছেন, ‘মোবাইল ফোন গ্রাহক এভাবে কমার কারণটি করোনার সঙ্গে যুক্ত, তবে এটি মানুষের মৃত্যুর কারণে নয়। মূলত চীনাদের লাইফস্টাইলে পরিবর্তন এসেছে সে কারণেই মোবাইল ফোন সংযোগ কমেছে।’ তিনি বলেন, ‘কভিড-১৯ এর কারণে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামাজিক কর্মকান্ড কমেছে। চীনের বিপুল সংখ্যক নাগরিক একাধিক সিম ব্যবহার করে। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য কমায় তারা অপ্রধান সিমগুলো বন্ধ করে রেখেছে। শুধু প্রয়োজনীয়টি ব্যবহার করেছে। এ কারণেই বিপুল সংখ্যক গ্রাহক কমার বিষয়টি দেখা যাচ্ছে।’

এ বিষয়ে ভারতের রিপাবলিক টিভি জানায়, ‌‌’মাইগ্রেন্ট কর্মীদের কারণে মূলত মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী কমেছে। কারণ চীনের কোটি কোটি কর্মী এক প্রদেশ থেকে অন্য প্রদেশে গিয়ে কাজ করে। তারা কর্মস্থলের জন্য এক নাম্বার এবং নিজ এলাকার জন্য অন্য নাম্বার ব্যবহার করে। ফলে কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের একটি সিম বন্ধ হয়ে যায়।’

সূত্র: ট্রু পাবলিকা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরো সংবাদ

ফেসবুকে খবর২৪ বিডি ডট নেট